• ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রবিবার ৩১ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mamata Banerjee

কলকাতা

জামা ছিঁড়ে দিল বিক্ষোভকারীরা, সঞ্জুর বাড়িতে বসেই হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা অভিষেকের

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচির কথা আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং ই-মেলও করা হয়েছিল। তবু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ছিল না।সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছনোর পথে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।সাদা জামায় ডিমের দাগ নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না বাহিনী এসে আমাকে উদ্ধার করছে।তিনি আরও বলেন, আমি চাইলে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি চলে গেলে সঞ্জুর বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার হতে পারে। তাই বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে সব জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান অভিষেক। তিনি বলেন, এই ঘটনার দিকে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব। দরকার হলে নিজেই আবেদনকারী হিসেবে মামলা করব। সংবিধান আমাকে সেই অধিকার দিয়েছে।ঘটনাস্থলে অভিষেকের সঙ্গে মাত্র দুজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁদের দাবি, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কোনও রকমে তাঁকে নিরাপদে সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতেই স্থানীয় থানার আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর আবেদন করা হয়।পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
রাজ্য

‘আনুগত্যের পুরস্কার’ থেকে ইস্তফা— তৃণমূলে বিস্ফোরণ, মমতাকে বার্তা: ভুঁইফোঁড়দের নয়, ফিরুন পুরনো সৈনিকদের কাছে

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিলেন বারাসতের সাংসদ তথা দলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)। দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি কার্যত শাসকদলের বর্তমান সাংগঠনিক রণকৌশল নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন। শুধু পদত্যাগ করেই থেমে থাকেননি কাকলি, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-র উদ্দেশে সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন নতুন ভুঁইফোঁড় সংস্থা বা বাহ্যিক পরামর্শদাতাদের উপর নির্ভর না করে, দলের পুরনো নিষ্ঠাবান কর্মীদের উপরেই আস্থা রাখা হোক।এই পদক্ষেপ ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, কয়েক দিন আগেই দলের সংসদীয় মুখ্যসচেতকের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল কাকলিকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( Kalyan Banerjee)-কে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় কালীঘাটে হওয়া বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল।পদচ্যুত হওয়ার ঠিক পরের দিন সমাজমাধ্যমে কাকলির একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ১৯৭৬ থেকে পরিচয়, ১৯৮৪-তে পথচলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছিল তাঁর ক্ষোভ ও অভিমান।তার পর নয় দিন কাটতে না কাটতেই রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi)-র কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ালেন তিনি।চিঠিতে কাকলি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন,নেত্রী যদি আগের মতো পুরনো, পরীক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের নিয়ে দল চালান, তবে দলের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। ভুঁইফোঁড় সংস্থার উপর ভরসা করে কঠিন রাজনৈতিক লড়াই জেতা সম্ভব নয়।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যে পরোক্ষে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত পেশাদার সংস্থাগুলির ভূমিকাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাক (Indian Political Action Committee)-এর ভূমিকা নিয়ে ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের একাংশের অসন্তোষের ইঙ্গিত আগেও সামনে এসেছিল। কাকলির বক্তব্য সেই ক্ষোভকেই আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল বলে মনে করা হচ্ছে।ইস্তফাপত্রে তিনি রাজ্যের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে হলে রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, জবাবদিহি এবং মূল্যবোধকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।নিজের সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ও এড়িয়ে যাননি কাকলি। বিধানসভা ভোটে তাঁর সাংগঠনিক এলাকায় দল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। সেই নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিয়েই জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কাকলির এই পদত্যাগ শুধুই ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরে জমতে থাকা অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনী ধাক্কার পর দল যখন আত্মসমালোচনার পর্যায়ে, তখন এক প্রবীণ সাংসদের এমন প্রকাশ্য বার্তা নিঃসন্দেহে দলীয় নেতৃত্বের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ক্ষমতা হারিয়ে রক্তক্ষরণে তৃণমূল, ‘একলা চলার’ কঠিন পরীক্ষায় মমতা

রাজনীতিতে পালাবদল ঘটেই থাকে। কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে কোনো কোনো সময় অপ্রতিরোধ্য দেখায়। মনে হয় শাসন ক্ষমতায় থাকাটাই সেই রাজনৈতিক দলের কুক্ষিগত। কিন্তু, সময় বদলায়। ঐতিহাসিক নিয়মেই অতি ক্ষমতাধর শক্তিকেও ক্ষমতা থেকে সরতে হয়। দেশ, কাল ভেদের এই পরিবর্তনের বহু নিদর্শন ইতিহাসে রয়েছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ। স্বাধীনতার পর থেকে এই রাজ্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেছিল কংগ্রেস। তারপর কংগ্রেস কে সরিয়ে ক্ষমতায় বসে বামফ্রন্ট। দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন ক্ষমতায় ছিল সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন সরকার। অনেকেই ভাবতেন বাম শাসনের বোধহয় অবসান হবেনা। তা হয়নি। দীর্ঘ বাম শাসনকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মসনদে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসন ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয় ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরে তাদের রক্তক্ষরণ শুরু হয়।এই পরিস্থিতি থেকেই শুরু হয় দল বদলের পালা। দেশ জুড়ে নেতা নেত্রীর ক্ষমতা হারানো দল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যাওয়া অতি সাধারণ ঘটনা। মানুষ ও এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছে। তবে, এখান থেকে বিজয়ী দলের ও সমস্যা শুরু হয়। নেতা নেত্রীদের দল বদলের থেকে অতি দ্রুত এই যাওয়ার পালা শুরু হয় পরাজিত দলের নিচু স্তরের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। বাম আমলেও এই ঘটনা শুরু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্য জুড়ে সিপিএম এর ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকার লোভ, অর্থের লোভ ও সন্ত্রাস মূলত এই তিনটি কারণে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসার পালা শুরু হয়। এর ফলে যারা দীর্ঘদিন তৃণমূলে ছিলেন তাদের সঙ্গে দল বদলের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।সেই সময় তৃণমূলের মধ্যে সেই দ্বন্দ্ব এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল। যার প্রতিফলন হয়েছিল Red TMC বনাম Green TMC দ্বন্দ্বে। তৃণমূলের ১৫ বছর পরে ক্ষমতা থেকে সরায় নিচের তলার এই চলন শুরু হয়েছে। রাতারাতি, রাজ্যের আনাচে কানাচে বিজেপির পতাকা হাতে বহু জনকে দেখা যাচ্ছে যাদের এতদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেই দেখা যেত। রাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতিতে বার বার দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস ও জানে দলের কোনো মজবুত সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। ক্ষমতায় থাকার কারণে বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা ছিল। এই সুযোগে, সুবিধা পাওয়ার বন্দোবস্ত তৃণমূলকে একটা সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির সুবিধা দিয়েছিল।এখন ক্ষমতার বৃত্তে না থাকার কারণে দলের চেহারা ক্রমশ শীর্ণকায় হবে। এই কারণেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতে নামার জন্য বাম, কংগ্রেস ও আই এস এফ কে সঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও, তিনি ভালোই জানেন যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল এই তিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে কী ব্যবহার করেছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ রাজ্যে ছিল না। সবটাই ছিল পেশীশক্তির ভিত্তিতে। কংগ্রেস ও বামেরা পাঁচ বছর বিধানসভার বাইরে ছিল। এই নির্বাচনে তাদের যেটুকু সাফল্য এসেছে তা তৃণমূলের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই এসেছে। এখন তারা যদি তৃণমূলের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে আবার প্রশ্ন উঠবে।INDIA ব্লক টিঁকিয়ে রাখার জন্য কংগ্রেস এই রাজ্যে তৃণমূলের সুরে বিজেপি বিরোধীতা করলেও সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে আন্দোলনে নামবে না বলেই মনে হয়। অন্যদিকে, আই এস এফ বা বাম দলগুলি তো প্রকাশ্যেই তৃণমূল নেত্রী কে এই আহ্বানের জন্য রাজনৈতিক ভাবে বিঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে মনে হয় ভালো, মন্দ যাই হোক তৃণমূল কে তা মেনে নিয়ে একলাই চলতে হবে। একলা পথ চলার কথাই নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনসভায় বলেছেন মমতা। এখন অন্যদের দিকে হাত বাড়ালেও তাঁকে একলাই চলতে হবে।

মে ২৩, ২০২৬
কলকাতা

“এসব করে মাথা নত করানো যাবে না” — নোটিস ইস্যুতে ফুঁসছেন অভিষেক, বৈঠকে বড় বার্তা মমতার

ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই ফলাফলেও দমে যেতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে ফের বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিজেপির উত্থানের আবহে দল কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের।বৈঠকে উঠে আসে কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিসের প্রসঙ্গ। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বলেন, তাঁর বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এসব করে তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন অভিষেক। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে বলেন, আগামী দিনে কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না।কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুরনিগমের আধিকারিকেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেই সময় হরিশ মুখার্জি রোডের শান্তিনিকেতন এবং কালীঘাটের বাড়িতে কিছু বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই পুরনিগমের তরফে নোটিস পাঠানো হয়। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই নির্মাণ ভাঙতে হবে। তা না হলে পুরনিগম নিজেই ব্যবস্থা নেবে।যদিও এই বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, কোন বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হবে, সেই সিদ্ধান্ত মেয়র নেন না। পুর কমিশনার প্রশাসনিক ক্ষমতা অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করতে পারেন।এদিনের বৈঠকে আরও একটি বড় বিষয় ছিল স্বঘোষিত পুষ্পা জাহাঙ্গিরকে ঘিরে বিতর্ক। ফলতায় লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের অন্দরে অসন্তোষ বাড়ছে। বৈঠকে একাধিক বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, দলের সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এমনকি জাহাঙ্গিরকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও ওঠে বৈঠকে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মে ১৯, ২০২৬
কলকাতা

ভবানীপুর থেকেই মমতার রাজনীতির শেষের বার্তা? বিস্ফোরক শুভেন্দু

ভোটের পর ভবানীপুরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভা করতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে সভা করেন তিনি। সেখান থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, গত ১৫ বছরে ভবানীপুরের মানুষ জানতেন না একজন বিধায়কের কাজ কী।শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এতদিন ভবানীপুরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এবার মানুষ বুঝতে পারবেন একজন বিধায়ক কীভাবে কাজ করেন। তিনি বলেন, এখন ভবানীপুরের মানুষের ভাই বিধায়ক হয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে ভবানীপুরের ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টিতে বিধায়ক অফিস খোলা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।একইসঙ্গে এলাকার মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি জানানোর জন্য বিশেষ মোবাইল নম্বর এবং ইমেল ব্যবস্থা চালু করা হবে। কেউ কোনও সমস্যা বা অভিযোগের মুখে পড়লে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেও জানান শুভেন্দু।সভা থেকে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং গুন্ডাবাজির বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ধরনের ঘটনা হয় না এবং ভবানীপুরেও তা হতে দেওয়া হবে না।এদিন শুভেন্দু আরও দাবি করেন, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মিত্র ইনস্টিটিউশন বুথে ভোট দেন, সেই চারটি বুথেই তিনি লিড পেয়েছেন। এখানেই থামেননি তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, যিনি নিজের বুথেই জিততে পারেন না, বাংলার মানুষ তাঁকে পথ দেখিয়ে দিয়েছে। টাটা বাই বাই, আপনার রাজনীতির দিন শেষ, সভা থেকে এমন মন্তব্যও করেন শুভেন্দু অধিকারী।কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, চেতলা গার্লস স্কুলের পাঁচটি বুথেও বিজেপি লিড পেয়েছে।শেষে ভবানীপুরের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, মানুষের এই সমর্থনের ঋণ তিনি শোধ করবেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

মে ১৮, ২০২৬
কলকাতা

আদালতে মমতার আবেগঘন আর্জি, তারপরই বড় নির্দেশ হাইকোর্টের!

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টে এক বিরল ছবি দেখল বাংলা। হাতে কাগজ ও ছবি নিয়ে এজলাসে দাঁড়িয়ে সওয়াল করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সামনে আবেদন জানান, রাজ্যের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক।এদিন কলকাতা হাইকোর্টে দুটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হয়। একটি মামলা করেন আইনজীবী রীতঙ্কর দাস। সেখানে হগ মার্কেটে জেসিবি দিয়ে মূর্তি ভাঙার অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে, ভোট পরবর্তী হামলা ও অশান্তি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়।শুনানির পর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশকেই নিতে হবে। ভোট পরবর্তী হিংসায় যাঁদের দোকান বা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দল না দেখে তাঁদের সাহায্য করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।আদালত আরও জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশকে হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে।এই রায়ের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আদালত তাদের অভিযোগের গুরুত্ব স্বীকার করেছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আদালতে সওয়াল করেছেন। হাইকোর্টও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত। যেভাবে তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা হচ্ছে, দোকান ভাঙা হচ্ছে, মানুষকে এলাকা ছাড়া করা হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।কুণাল আরও বলেন, আদালতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছেন। এই মামলার রায় ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

মে ১৪, ২০২৬
রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টে আজ আই-প্যাক মামলা: মমতার ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা

বহুল চর্চিত আই-প্যাক (I-PAC) মামলার শুনানিতে আজ ফের সরগরম হয়ে সম্ভবনা ওঠার সম্ভাবনা সুপ্রিম কোর্ট। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বান্দ্যোপাধ্যায়-র ভূমিকা নিয়ে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর অভিযোগ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলকাতায় আই-প্যাকের দফতর ও কর্ণধারদের বাড়িতে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে গিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালতে মামলা চলছে।এর আগে শুনানিতে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন.ভি. আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত চলাকালীন সরাসরি সেখানে উপস্থিত হয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। এতে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি আইনের শাসন ও তদন্তের স্বাধীনতার প্রশ্ন।ইডির তরফে সলিসিটর জেনারেল আদালতে দাবি করেন, আই-প্যাকের তল্লাশির সময় শুধু তদন্তে বাধা দেওয়া হয়নি, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্যও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা চায়, এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হোক এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হোক।অন্যদিকে, সরকারের বদল হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা আদালতে কি দাবি করেন সেটাই দেখার অপেক্ষায় আম জনতা। এর আগে তদানীন্তন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা জানান, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ছিল রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত অভিযানের প্রতিবাদ হিসেবে। তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজ্যের দাবি ছিল, ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ইস্যুকে বড় করে দেখাতে চাইছে।শুনানির এক পর্যায়ে আদালত মন্তব্য করে, এ ধরনের পরিস্থিতি সংবিধান প্রণেতারাও কল্পনা করেননি। এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, আগামী শুনানিতে আদালত মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং তদন্তের পরবর্তী দিকনির্দেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

মে ১৩, ২০২৬
রাজ্য

“শেষে রাহুলের কাছেই হাতজোড় করতে হবে!” মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, একসময় বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তিনিই রাজনৈতিক সংকটে পড়ে সকলকে পাশে চাওয়ার চেষ্টা করছেন।অধীর চৌধুরী বলেন, বামেদের সরানোর সময় উনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়। এখন দিদি নিজেই বিপদে পড়েছেন। তাই সবাইকে ডাকছেন। তাঁর কটাক্ষ, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছেও হাতজোড় করতে হতে পারে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অধীর। তিনি বলেন, বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা দেখতে চাই। যদি কেউ যান, তাহলে বোঝা যাবে বাংলার মানুষ এখনও তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মানছেন কি না।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও আক্রমণ শানান অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, শুনছি খোকাবাবুর বাড়ি এখন দর্শনীয় জায়গা হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার সুবাদে কত ক্ষমতা পাওয়া যায় এবং সেই ক্ষমতায় কেমন বাড়ি তৈরি হয়, তা দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। এখানেই থামেননি অধীর। তাঁর মন্তব্য, খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজিয়াম হয়ে যাবে।জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, দিদি আগামী দিনে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এটা নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর কাছেই তাঁকে যেতে হবে।প্রসঙ্গত, শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গঠনের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আসতে হবে। বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মমতা স্পষ্ট বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।যদিও তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় এখনও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বামেরা। আপাতত তারা একাই লড়াই করার অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ইতিহাসে হাত শুভেন্দুর! নতুন বিতর্কে সরগরম বাংলা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দিনই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড ময়দানে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান তিনি। সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর পরই পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে বড় ইঙ্গিত দেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস ১৯৪৭ সালের ২০ জুন হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, ওই দিন বাংলাভাগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছিল। তিনি জানান, এই বিষয়টি মন্ত্রিসভা এবং বিধানসভায় তোলা হবে। শুভেন্দুর কথায়, ইতিহাস বদলে দেওয়া যায় না। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে আমাদের অবস্থাও বাংলাদেশে থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুদের মতো হতে পারত।১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার আইনসভায় বাংলাভাগের প্রস্তাব ওঠে। ভোটাভুটিতে বাংলাভাগের পক্ষে মত পড়ে। তার ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হয় এবং পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারও এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করে। লোকভবনেও প্রতি বছর ২০ জুন অনুষ্ঠান হয়।তবে তৎকালীন তৃণমূল সরকার এই সিদ্ধান্ত মানতে চায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্য বিধানসভায় পয়লা বৈশাখকে বাংলা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দুই তারিখ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। এবার রাজ্যে সরকার বদলের পর নতুন করে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলল শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে।রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দিনেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনাকে সামনে এনে শুভেন্দু স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে।মেটা বর্ণনা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পয়লা বৈশাখের বদলে ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস করার কথা বলতেই শুরু তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

মে ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ব্রিগেডে শুভেন্দুর শপথে জনসমুদ্র, ফাঁকা মমতার কালীঘাটের বাড়ি

বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণকে ঘিরে যখন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে উপচে পড়া ভিড়, তখন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি দেখা গেল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কার্যত নীরবতা নেমে এসেছে। গোটা এলাকা প্রায় ফাঁকাই দেখা যায়।তবে সেই নীরবতার মাঝেই ব্রিগেডমুখী বিজেপি সমর্থকদের ছোট-বড় মিছিল যেতে দেখা যায় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট দিয়ে। মমতার বাড়ির সামনে দিয়েও জয় শ্রী রাম স্লোগান তুলতে দেখা যায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের।পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে এলাকায় মোতায়েন ছিল পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে টহল দিতেও দেখা যায়।এরই মধ্যে তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীও পৌঁছে যান মমতার বাড়ির সামনে। তাঁরা নেত্রীর পাশে থাকার বার্তা দিতে সেখানে উপস্থিত হন। বিজেপির জয় শ্রী রাম স্লোগানের পাল্টা হিসেবে তাঁদের অনেককে জয় বাংলা স্লোগান তুলতেও দেখা যায়।অন্যদিকে ব্রিগেডে তখন জমে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় শপথ অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় পৌঁছে রেসকোর্সের হেলিপ্যাড থেকে সরাসরি ব্রিগেডের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী।শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এছাড়াও দেশের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। একে একে মঞ্চে পৌঁছতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। উপস্থিত ছিলেন বাংলার রাজ্যপালও।ব্রিগেডে উচ্ছ্বাস আর কালীঘাটে নীরবতার এই দুই বিপরীত ছবি এখন রাজ্য রাজনীতিতে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মে ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ব্যারিকেড উধাও, খালি পুলিশ বুথ! কালীঘাটে বদলে গেল চেনা ছবি

অবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসের সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সরানো হল। কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড এবং ক্যামাক স্ট্রিটে দেখা গেল একেবারে বদলে যাওয়া ছবি। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সিজার ব্যারিকেড, স্ক্যানার এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও। এই সিদ্ধান্তের পর স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি শান্তিনিকেতন-এর পিছনে থাকা এক মহিলা জানান, এতদিন ওই এলাকার দিকে তাকিয়েও চলাফেরা করা কঠিন ছিল। তাঁর দাবি, রাস্তায় ব্যারিকেড করে সাধারণ মানুষকে আটকে রাখা হত। দীর্ঘদিন ধরে চরম অসুবিধার মধ্যে থাকতে হয়েছে তাঁদের। এখন পরিস্থিতি বদলেছে বলে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।এলাকার আরও এক বাসিন্দা কটাক্ষ করে বলেন, দেশে যেন দুজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। একজন দিল্লিতে, আরেকজন পশ্চিমবঙ্গে। এতদিন এলাকায় হাজার হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকত বলেও দাবি করেন তিনি। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারছেন বলেই মন্তব্য তাঁর।আরেক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, এত আনন্দ লটারি পেলেও হয় না। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে রাজপ্রাসাদ-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এখন সেই বাড়ির সামনে থেকে ধীরে ধীরে নিরাপত্তা সরতে দেখা যাচ্ছে।সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনেই জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। তবে কলকাতা পুলিশ এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কালীঘাট রোড এবং ক্যামাক স্ট্রিট এলাকায় এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল বলে জানা গিয়েছে।পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তার বাইরেও যে অতিরিক্ত ব্যবস্থা ছিল, তা তুলে নেওয়া হবে। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই একে একে খালি করা হয় পুলিশ কিয়স্ক বুথ। গেটের সামনে থাকা অতিরিক্ত পুলিশও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ গলির মুখে মোতায়েন থাকা পুলিশকর্মীরাও এলাকা ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মে ০৬, ২০২৬
কলকাতা

মমতার দুর্গেই ভাঙল ঘাঁটি! ভবানীপুরে বিশাল ব্যবধানে শুভেন্দুর জয়

দীর্ঘদিন ধরে ভবানীপুরে লড়াই করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই কেন্দ্রেই বড় ধাক্কা খেলেন তিনি। কুড়ি রাউন্ড গণনা শেষে প্রায় ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে তাঁকে পরাজিত করলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর ফলে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও জয়ী হলেন শুভেন্দু।ভবানীপুরে ভোটগণনা ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছিল। গণনার মাঝপথে নিজেই কেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোট গণনায় কারচুপি হচ্ছে। যদিও সেই অভিযোগের মধ্যেই গণনা চলতে থাকে। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ স্পষ্ট হয়ে যায় ফলাফল। দেখা যায়, ২০ রাউন্ড শেষে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৬৩ ভোট, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৩৪৯ ভোট।নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, তিনি ধীরে ধীরে ব্যবধান বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জিতবেন। তাঁর সেই পূর্বাভাসই যেন মিলল বাস্তবে। শুরুতে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও পরের রাউন্ডগুলোতে ব্যবধান কমিয়ে শেষে এগিয়ে যান তিনি এবং জয় নিশ্চিত করেন।জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে এবং ভোট লুঠ করা হয়েছে। তিনি জানান, এই লড়াই এখানেই শেষ নয়, তিনি আবার ফিরে আসবেন।শুধু ভবানীপুর নয়, নন্দীগ্রামেও জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূলের অবস্থানও এই নির্বাচনে দুর্বল হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

মে ০৪, ২০২৬
কলকাতা

বৃষ্টির মধ্যেই স্ট্রংরুমে মমতা! ইভিএম নিয়ে বড় সন্দেহ, বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের

ভোট মিটতেই ইভিএম নিরাপত্তা নিয়ে জোরদার হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বৃহস্পতিবার বিকেলেই ভিডিও বার্তায় ইভিএম পাহারা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Strongroom Controversy)। তিনি কারচুপির আশঙ্কার কথাও বলেন এবং স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টির মধ্যে ভবানীপুরের শেখাওয়াত মেমোরিয়ালে স্ট্রংরুমে পৌঁছে যান তিনি।এদিকে একই সময় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তৃণমূলের প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা এবং বিজয় উপাধ্যায়। তাঁদের অভিযোগ, স্ট্রংরুমের ভিতরে (Strongroom Controversy) সন্দেহজনক কাজকর্ম চলছে। লাইভ সম্প্রচারে দেখা যাচ্ছে ভিতরে নড়াচড়া হচ্ছে এবং হাতে হাতে ব্যালট ঘোরানো হচ্ছে। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভিতরে কোনও কাজ হচ্ছে না। এতে প্রশ্ন উঠেছে, যদি পোস্টাল ব্যালটের কাজই হয়, তাহলে সেই ব্যালট এল কোথা থেকে।কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিকেল সাড়ে তিনটে পর্যন্ত স্ট্রংরুমের সামনে দলীয় কর্মীরা ছিলেন। পরে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আচমকা ইমেলের মাধ্যমে জানানো হয়, বিকেল চারটেয় স্ট্রংরুম খোলা হবে। তখন কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তাঁরা আর সেখানে নেই (Strongroom Controversy)। খবর পেয়ে কুণাল ও শশী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।এই ঘটনার জেরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ইভিএম নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ফের। ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬
রাজ্য

গঙ্গায় নৌকাবিহার ঘিরে মোদিকে তোপ! মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষে তোলপাড় রাজনীতি

উত্তরপাড়ার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গঙ্গায় নৌকাবিহার নিয়ে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনীর বিশেষ নৌকায় চড়েই গঙ্গায় ঘুরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই নৌকায় কোনও দুর্ঘটনার ভয় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন নৌকাবিহার করছেন এবং হুগলি নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। তাঁর কথায়, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই এই সফর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ঘাটগুলি সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, সেগুলিও নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন।এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীতের একটি ঘটনাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী । তিনি দাবি করেন, কোভিডের সময় উত্তরপ্রদেশ থেকে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা পরে মালদহে পাওয়া যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন তিনি।এছাড়া দিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়েও প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গঙ্গা পরিষ্কার রাখতে রাজ্য চেষ্টা করে, কিন্তু কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য মেলে না। ড্রেজিংয়ের জন্য অর্থ দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, দিল্লিতে যমুনার দূষণ কতটা বেড়েছে, তা একবার দেখে নেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, যমুনার জল এতটাই দূষিত যে সেখানে নামলে ক্ষতি হতে পারে।

এপ্রিল ২৫, ২০২৬
দেশ

মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে ঢুকতেই প্রশ্নে গণতন্ত্র! সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক মন্তব্য, তুষার মেহতার বড় অভিযোগ

আইপ্যাক মামলাকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার বিচারপতি পি কে মিশ্র গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানান, কোনও মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, তাহলে গণতন্ত্রের উপর প্রশ্ন উঠে যায়। এই মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা একের পর এক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।ঘটনার সূত্রপাত আইপ্যাক অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং কিছু নথি ও ডিজিটাল সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে মামলা দায়ের হয়। রাজ্যের তরফে ইডির তদন্তের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আর সেই বিষয়েই এদিন আদালতে নিজের সওয়াল পেশ করেন তুষার মেহতা।তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, আইনের শাসন বজায় রাখা সংবিধানের একটি মৌলিক অধিকার এবং তা লঙ্ঘিত হয়েছে। কয়লা পাচার মামলায় বিপুল টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সেই তদন্তে ইডি কাজ করছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন। তাঁর আরও দাবি, বেআইনি অর্থ বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে অন্য রাজ্যে গিয়ে পরে আইপ্যাকের কাছে পৌঁছেছে।মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইডি আধিকারিকদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই ঘটনার পর ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়, সেটিকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতে আসা হয়েছে বলে জানান তুষার মেহতা। তিনি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।তুষার মেহতা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার তথ্য এবং কর্মীদের মোবাইল ফোন পর্যন্ত পুলিশ নিয়ে গেছে। তাঁর কথায়, যাঁরা নিজেরাই তদন্তের আওতায় রয়েছেন, তাঁদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।হাইকোর্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুনানির আগেই কোর্টরুমে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। যদিও বিচারপতি পি কে মিশ্র জানতে চান, এই বিষয়ের সঙ্গে মামলার সরাসরি সম্পর্ক কী। জবাবে তুষার মেহতা জানান, ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ না থাকায় তারা উচ্চ আদালতের পরিবর্তে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসতে বাধ্য হয়েছেন।তিনি অতীতের একাধিক ঘটনার উল্লেখও করেন। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে ঘিরে সিবিআই তদন্তের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রসঙ্গ তোলেন। অভিযোগ করেন, তদন্তে বারবার বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদালতের কাজেও প্রভাব ফেলার চেষ্টা হয়েছে।জানুয়ারি মাসে আইপ্যাক অফিসে তল্লাশির ঘটনার পর এই মামলা শুরু হয়। সেই মামলার শুনানি এখন সুপ্রিম কোর্টে চলছে। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও শুনানিতে তুষার মেহতা বিস্তারিত সওয়াল করেন এবং একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন।

এপ্রিল ২৩, ২০২৬
রাজ্য

নববর্ষের শুভেচ্ছায় তীব্র রাজনৈতিক বার্তা! মোদী-মমতার কথায় চমক

বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাতেও এ বার স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল রাজনৈতিক আবহ। ভোটের মুখে শুভেচ্ছা বার্তাতেও দেখা গেল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের সুর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সকলেই নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলার মানুষকে।প্রধানমন্ত্রী বাংলাতেই পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এই বিশেষ দিনে সকলের জীবনে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকুক। তিনি সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ কামনা করেন এবং উল্লেখ করেন যে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ভারতের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে।অমিত শাহ তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিপ্লবীদের গৌরবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন বছরে রাজ্যে উন্নয়ন, সুশাসন এবং সকলের কল্যাণের নতুন অধ্যায় শুরু হোক। একই সুর শোনা যায় বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীনের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ নতুন আশা ও স্বপ্নের সূচনা করে এবং এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়, যেখানে উন্নয়ন ও সম্মানের সঙ্গে মানুষ বাঁচতে পারবে।অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বার্তায় বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার কথা জোর দিয়ে বলেন। তিনি সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলা সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্র। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বহু সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে, যা মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহায়তা করছে।একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বাংলার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভোট প্রক্রিয়াতেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানান, এই পরিস্থিতির জবাব ভোটের মাধ্যমে দিতে। তিনি আরও বলেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাদের জন্য তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাবেন।শেষে তিনি শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বলেন, হিংসা নয়, বরং ভালোবাসা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন বাংলা গড়ে তুলতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যদি তাঁর নেতৃত্বে সরকার চান, তবে সব কেন্দ্রে তাঁর দলের প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে।

এপ্রিল ১৫, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

মোদী-মমতার শোকবার্তা, সুরের জগতে অপূরণীয় ক্ষতি

সুরের জগতে নেমে এল গভীর শোক। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। রবিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল বিরানব্বই বছর। এই খবরে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত জগৎ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, আগামীকাল বিকেল চারটেয় মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, আশা ভোঁসলে ছিলেন দেশের অন্যতম প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে তিনি ভারতীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং তাঁর গান বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। তাঁর কণ্ঠের ঔজ্জ্বল্য ও বৈচিত্র্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ও। তিনি বলেন, আশা ভোঁসলে ছিলেন এক অনন্য শিল্পী, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করেছেন। বাংলা গানেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য এবং বাংলার মানুষ তাঁকে বিশেষভাবে ভালোবাসতেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতি জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হল বলে মন্তব্য করেন তিনি।আশা ভোঁসলের দীর্ঘ সঙ্গীতজীবন এবং অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁকে চিরকাল অমর করে রাখবে বলেই মনে করছেন অনুরাগীরা।

এপ্রিল ১২, ২০২৬
রাজ্য

পনেরো লক্ষ কোথায়? বারাসত থেকে বিস্ফোরক প্রশ্ন মমতার

বাংলায় নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের পরেই শুরু হল তীব্র রাজনৈতিক তরজা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর ঘোষণার জবাবে বারাসতের সভা থেকে সরাসরি আক্রমণে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কোনওটাই বাস্তবে পূরণ হয়নি। তাঁর কথায়, আগে বলা হয়েছিল সবার অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে, কিন্তু কেউই সেই টাকা পাননি। এবারও একইভাবে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের সময়েই শুধু বিজেপি নেতারা আসেন, প্রতিশ্রুতি দেন এবং ভোট শেষ হলেই চলে যান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্য রাজ্যে শাসক দলের সরকার থাকা সত্ত্বেও মহিলাদের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে না, অথচ বাংলায় এসে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে।ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিও এদিন জোরালোভাবে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় নব্বই লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে, যার মধ্যে প্রায় ষাট লক্ষ হিন্দু এবং ত্রিশ লক্ষ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি অসমের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে নাগরিকপঞ্জির মাধ্যমে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, এবার বাংলাতেও সেই একই প্রচেষ্টা চলছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না এবং মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।এদিন ইভিএম নিয়ে কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, হলদিয়ায় মাছ উৎপাদন নিয়ে করা মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন তিনি। ব্রিগেডে এক হকারকে মারধরের ঘটনাও তুলে ধরেন নিজের বক্তব্যে। তাঁর কথায়, অন্যায় হলে তার জবাব আইন মেনেই দেওয়া হবে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ছোটরা ভুল করলে যেমন বকাঝকা করা হয়, তেমনই যারা বড় হয়েও অন্যায় করে, তাদেরও মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়ে জবাব দেবে। নাম না করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, জোর করে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তারও জবাব মানুষ ভোটের মাধ্যমে দেবে।

এপ্রিল ১০, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে তীব্র সংঘাত! মমতা ও শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তাল রাজ্য

ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের কাছে গিয়েছে তৃণমূল। দুই শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির অভিযোগ, আদর্শ আচরণবিধি চালু হওয়ার পরেও ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছবি এবং কাটআউট এখনও লাগানো রয়েছে। এই বিষয়টিকেই আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে তারা এবং সেই কারণেই কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।এর মধ্যে আরও একটি বিষয় নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। জানা যায়, ভোটে প্রার্থী হওয়ার আগে নিয়ম মেনে একাধিক লাভজনক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে খবর আসে তিনি ২৬ থেকে ২৮টি পদ ছেড়েছেন। তবে পরে জানা যায়, সেই ইস্তফা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরে নতুন করে জমা দেওয়া হবে।অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। বুধবার নন্দীগ্রামে একটি সভায় তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে উদ্দেশ্য করে বিজেপি কর্মীরা অসম্মানজনক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে।সব মিলিয়ে ভোটের আগে দুই শিবিরের এই সংঘাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কমিশন এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সবার।

মার্চ ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে তৃণমূলের ডাবল আক্রমণ! উত্তর থেকে দক্ষিণে ঝড় তুলবেন মমতা-অভিষেক

আর মাত্র একমাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে থেকেই জোরকদমে প্রচারে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে প্রচারের দায়িত্ব নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৪ মার্চ আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর। একই দিনে মাটিগাড়া এবং ময়নাগুড়িতেও সভা করবেন তিনি।অন্যদিকে, একই দিন দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় তাঁর প্রথম জনসভা হওয়ার কথা। এরপর ২৫ মার্চ তিনি নন্দীগ্রাম সহ দুই মেদিনীপুরে একাধিক সভা করবেন। দাসপুর, কেশিয়ারি ও নারায়ণগড়ে জনসভা এবং নন্দীগ্রামে কর্মী বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।সূত্রের খবর, ভবানীপুরে কর্মীসভা করার পরই উত্তরবঙ্গে চলে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের সব আসনেই প্রথম দফায় ভোট হওয়ায় সেখানে বিশেষ জোর দিচ্ছেন তিনি। একদিনে একাধিক সভা করে প্রচার তীব্র করতে চান তৃণমূল নেত্রী।রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা এখনও বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। সেই কারণে সেখানে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে দলীয় শক্তি আরও মজবুত করতে মাঠে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এছাড়াও জানা গিয়েছে, মার্চ মাস জুড়ে উত্তরবঙ্গের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা ও রোড শো করবেন অভিষেক। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় জনসংযোগ কর্মসূচিও চালাবেন তিনি।সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যে জোরদার প্রচার শুরু করে বিজেপিকে টক্কর দিতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

মার্চ ২১, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 15
  • 16
  • ›

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বুলেট থেকে ব্যালট, সন্ত্রাস থেকে স্বপ্ন: মাওবাদ দমনের ভারতীয় মডেল

পরিবর্তন২০০৯ সাল । কেন্দ্রে ইউ পি এ সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লেফ্ট উইং এক্সট্রিমিজমকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় বিপদ বলে চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু, মাওবাদী সন্ত্রাসকে দমন করা যায় নি। বছর ঘুরতেই ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়ারাতে মাওবাদী সন্ত্রাসের ভয়াবহ চেহারা দেখেছিল ভারতবর্ষ। মাওবাদী আক্রমণে সেদিন ৭৬ জন সিআরপিএফ জোয়ান নিহত হন। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে মাওবাদী সন্ত্রাস। দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীদের আক্রমণে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা উধাও হয়ে যায়। স্বাধীন দেশে যে সরকারি শাসন থাকে তা ওই সমস্ত অঞ্চলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে । ২০১৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয়। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। ক্ষমতায় আসার পরেই মাওবাদী সন্ত্রাস সম্পর্কে জিরো টলারেন্স নীতি নেয় সরকার। মাওবাদী দমনে কৌশলগত নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন আসায় ক্রমশ মাওবাদীরা কোনঠাসা হতে থাকে। অবশেষে ২০২৬ সালের ৩০ শে মার্চ সংসদের বাজেট অধিবেশনে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ ঘোষণা করেন মাওবাদী সন্ত্রাস থেকে মুক্ত হয়েছে ভারত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণায় যে বিষয়গুলি স্পষ্ট হয় তা হলো, মাওবাদী সন্ত্রাস দমনে কোন কৌশলী নীতির প্রয়োজন ছিল । সেই নীতি সফলভাবে রূপায়ণের জন্য কতটা রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা প্রয়োজন ছিল। সেই দায়বদ্ধতার লক্ষ্য ছিল, মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যের সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক রঙ নির্বিশেষে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যৌথ কৌশল রচনা ও নিরাপত্তা অভিযানের সাফল্যকে সুসংগঠিত করে মাওবাদী দমনে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। এই সু-সংহত, নিবিড় ও নিপুণ কৌশলী পরিকল্পনার ফলেই মাওবাদী সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে দেশ।সাফল্যের সুচনাঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে, তামিলনাড়ু যেখানে যেখানে মাওবাদীরা ঘাঁটি গেড়েছিল সেখানে সেখানেই তাদের গতিবিধি সংকুচিত হতে থাকে। ক্রমশ তারা পালিয়ে কেন্দ্রীভূত হয় ছত্তিশগড়ে। কিন্তু, কেন্দ্রীয় সরকারের সু- কৌশলী নিরাপত্তা অভিযানে সেখানেও সাফল্য আসতে শুরু করে। ছত্তিশগড়ে ২০২৪ সালে ২,৭৬২ জন মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ২০২৫ এর ৩০শে মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান। ২০২৪ সাল থেকে দেশ জুড়ে ৪,৮৩৯ জন মাওবাদী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ২০২৪-২০২৬ এই দুবছরে ২,২১৮ জন মাওবাদী গ্ৰেফতার হয়। ২০২৫ সালে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে মাওবাদী সন্ত্রাস মুক্ত হবে ভারত। ২০১৩ সালে দেশে ১২৬টি জেলা ছিল মাওবাদী অধ্যুষিত। তথাকথিত রেড করিডোর বিছিয়ে ছিল ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উড়িষ্যার কিছু কিছু অঞ্চলে। ২০২১ সালে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার গভীরে ৪০৬টি নতুন সিআরপিএফ ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরেই মাওবাদী দমন অভিযানে গতি আসে। একসময় এই এলাকাগুলোতে সরকারি প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকায় আইনের শাসন ছিল না। ফলে ওই সমস্ত এলাকায় মাওবাদীরা সমান্তরাল প্রশাসন গড়ে তোলে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় ছত্তিশগড়ের বস্তারে। বস্তারে প্রায় ৪২,০০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে মাওবাদীদের দাপট চলতে থাকে। কোর এলাকায় নতুন সিএপিফ ক্যাম্পের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণ, স্কুল স্থাপন এবং পাব্লিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম চালু হয়। রাস্তা তৈরি হওয়ায় খনির কাজেও গতি আসে। মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ের নারায়নপুর থেকে বিজাপুরের খনি উত্তোলনের দ্রব্য নিয়ে ট্রাক চলাচল শুরু হয়। মা একসময় কল্পনার বাইরে চলে গিয়েছিল। অতি দূর্গম ও অতি প্রান্তিক এলাকায় বাইরের জগতের এই টাটকা বাতাসের ঝলক পৌঁছতেই সেখানকার বদ্ধ জীবনেও আশা , আকাঙ্খা জাগতে শুরু করে। মাওবাদীদের দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তির সম্ভাবনাও জোরালো হতে থাকে। পুনর্বাসন২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই কেন্দ্রীয় সরকার মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ১৭,৫৮৯ কি মি রাস্তা তৈরি, ৩,৫০০০ মোবাইল টাওয়ার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। অতিদ্রুত সেই কাজ এগোতে থাকে। রাস্তা এবং মোবাইল সংযোগ বিস্তারের ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল ও পৌর এলাকায় পৌঁছনোর সুবিধা হয়ে যায়। এরফল পাওয়া যায় ২০২০ সাল থেকেই ছত্তিশগড় এলাকায় মাওবাদীদের অবাধ চলাচল বন্ধ হতে শুরু করে। ওই সময় থেকেই মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটি ও অন্যান্য কমিটির বৈঠক এর সংখ্যা কমতে থাকে। মাওবাদীদের দুর্বলতা এবং কোনঠাসা অবস্থা বিচার করে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ ঘোষণা করেন, মাওবাদীদের সম্পর্কে সরকারের নীতি খুব পরিষ্কার। যারা সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করবে তাদের সঙ্গে কথা হতে পারে, কিন্তু, যারা বুলেটেই বিশ্বাস রাখবে তাদের উত্তর সরকার বুলেটেই দেবে । এরই পাশাপাশি, হিংসা ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরলে তাদের জন্য পুনর্বাসন নীতি ঘোষণা করে সরকার। নীতি অনুযায়ী সমর্পন করলে ৫০,০০০ টাকা এবং অবিবাহিতা ও বিধবা মাওবাদী সদস্যা দের জন্য এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা বলা হয়। এছাড়াও অস্ত্র সহ সমর্পন করলে অস্ত্রের মান অনুযায়ী আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করে সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাওবাদীদের সাধারণ সম্পাদক বাসব রাজুর মৃত্যুর পাশাপাশি এই পুনর্বাসন নীতির ফলে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের সংখ্যা অতি দ্রুত বাড়তে থাকে।নতুন ভোরসম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ সংসদে জানিয়েছেন, ভারতবর্ষ এখন মাওবাদ মুক্ত। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের একগুচ্ছ পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারের লক্ষ্য হলো, যে অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করে মাওবাদীর প্রভাব বাড়িয়েছিল তা দূর করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনোভাবে অন্য নামে, অন্য চেহারায় এই ভুল রাজনীতি আর ফেরার চেষ্টা না করতে পারে। সালিমা টেটে ও মমতা হাঁসদা, নাম দুটো আজ আমাদের অতিপরিচিত। সালিমা ঝাড়খন্ডের আর মমতা পশ্চিম মেদিনীপুরের আদিবাসী কন্যা। এখন প্রথমজন ভারতীয় মহিলা হকি দলের এবং দ্বিতীয় জন ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যা। দুজনেই প্রমাণ করেছেন জঙ্গল, পর্বত ঘেরা প্রত্যন্ত জায়গায় সুযোগ পৌঁছলে কি হতে পারে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় ওই সব অঞ্চলে উন্নয়নের ধারায় স্কুল, কলেজ, ক্রীড়া কেন্দ্র, মুক্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা, নিবিড় ঘরকন্না ও গর্বিত জীবনবোধ ছড়াতে থাকলেই সন্ত্রাস, হিংসা শেষ করে যে নতুন ভোর এসেছে তার আলো অন্ধকার দূর করে এগোতে থাকবে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

চশমা ভেঙে চোখে আঘাত! শোভনের গাড়িতে মিন্টোপার্কের হাসপাতালে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে তাঁকে মিন্টো পার্ক এলাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁকে দেখতে যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সোনারপুরে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। সেই ঘটনায় তাঁর চশমা ভেঙে যায় এবং চোখে আঘাত লাগে বলে জানা গিয়েছে।প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকদের কাছে অভিষেক জানান, চোখে আঘাত লাগার পাশাপাশি শরীরের একাধিক জায়গাতেও চোট পেয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা প্রথমে তাঁর চোখের পরীক্ষা ও চিকিৎসা করেন। পরে অন্যান্য শারীরিক পরীক্ষাও করা হয়।অভিষেকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও অভিষেককে কিছুটা ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।দুই হাজার পনেরো সালের পাঁচ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে একটি কর্মসূচিতে তাঁকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে। দুই হাজার তেইশ সালের ছাব্বিশ মে ঝাড়গ্রামে কুড়মি বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একই বছরের চার অক্টোবর দিল্লিতে আন্দোলনের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে পুলিশ সরিয়ে নিয়ে যায়। ত্রিপুরাতেও একবার তাঁর কনভয় দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।সোনারপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হামলার ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

মে ৩০, ২০২৬
দেশ

অভিষেকের উপর হামলায় সরগরম দেশ! খাড়্গে-অখিলেশের বিস্ফোরক বার্তায় চাপে বিজেপি?

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার জাতীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সোনারপুরের ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সরব হয়েছে ইন্ডিয়া জোটের নেতারাও। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।সামাজিক মাধ্যমে মল্লিকার্জুন খাড়্গে লিখেছেন, সোনারপুরে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাঁর দাবি, অভিষেক ভোট-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা প্রতিহিংসার রাজনীতিরই উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।খাড়্গে আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সব বিরোধী দলের নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার কারণ হতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি দাবি করেন, এত সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না থাকা গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর কথায়, ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।এদিকে আগামী ছয় জুন ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, সেই বৈঠক নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জল্পনা চলছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্তরে বিরোধী শিবির আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে। ইন্ডিয়া জোটের আসন্ন বৈঠকের আগে এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ওপরের নির্দেশে অভিষেকের চিকিৎসা হচ্ছে না! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সোনারপুরে হামলার ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা করা হচ্ছে না বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, উপর মহল থেকে নির্দেশ আসার কারণেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।হাসপাতাল থেকে অভিষেককে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, আমরা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি। এখানে চিকিৎসা হচ্ছে না। উপর থেকে বলে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা না করতে। একই অভিযোগ তিনি একাধিকবার করেন। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।এরপর হাসপাতাল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে আনা হয়। তাঁকে বেশ ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। ধীরে ধীরে গাড়িতে ওঠেন তিনি। গাড়িতে তাঁর পাশে বসেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। গাড়িতে বসে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে নিতে দেখা যায় অভিষেককে। তারপর তাঁকে নিয়ে অন্য একটি হাসপাতালে রওনা দেয় গাড়ি।এর আগে সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়, ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। হামলার পরেও তিনি নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন।সেই সময় অভিষেক বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব।পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিষেককে নিরাপদে সেখান থেকে বের করে আনে। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য বাইপাস সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
রাজ্য

কালো পতাকা, ‘চোর-চোর’ স্লোগান, তারপর ডিম! সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে চাঞ্চল্য

সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাট থেকে সোনারপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকেই তাঁর কনভয় ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।কামালগাজি এলাকায় সিগন্যালে অভিষেকের কনভয় দাঁড়াতেই কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ তাঁর গাড়ির সামনে এসে কালো পতাকা দেখান। এরপর শুরু হয় চোর-চোর স্লোগান। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।এরপর সোনারপুরে যে তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অভিষেক যাওয়ার কথা ছিল, সেই এলাকার রাস্তায় বহু মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। স্থানীয়দের একাংশকে ডিম প্রস্তুত রাখার কথাও বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ।পরে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে করে ওই কর্মীর বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি হেলমেট পরেন। তবে ভিড়ের কারণে কিছু দূর যেতেই বাইক আটকে যায়।সেই সময় আচমকাই অভিষেককে লক্ষ্য করে পরপর ডিম ছোড়া শুরু হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড়ের মধ্য থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্যও করা হয়।অভিযোগ, পরে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাঁকে ঘিরে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ দেখুন। আমি হাইকোর্টে যাব। পুলিশের কোনও নিরাপত্তা নেই। এখানে ইট, পাটকেল, ডিম ছোড়া হচ্ছে। আমি ব্রাহ্মণ সন্তান, আমি কি বাংলাদেশি?ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

জামা ছিঁড়ে দিল বিক্ষোভকারীরা, সঞ্জুর বাড়িতে বসেই হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা অভিষেকের

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচির কথা আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং ই-মেলও করা হয়েছিল। তবু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ছিল না।সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছনোর পথে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।সাদা জামায় ডিমের দাগ নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না বাহিনী এসে আমাকে উদ্ধার করছে।তিনি আরও বলেন, আমি চাইলে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি চলে গেলে সঞ্জুর বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার হতে পারে। তাই বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে সব জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান অভিষেক। তিনি বলেন, এই ঘটনার দিকে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব। দরকার হলে নিজেই আবেদনকারী হিসেবে মামলা করব। সংবিধান আমাকে সেই অধিকার দিয়েছে।ঘটনাস্থলে অভিষেকের সঙ্গে মাত্র দুজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁদের দাবি, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কোনও রকমে তাঁকে নিরাপদে সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতেই স্থানীয় থানার আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর আবেদন করা হয়।পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
রাজ্য

‘আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক!’ সোনারপুরে হামলার পর বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সোনারপুরে মৃত তৃণমূল কর্মী সঞ্জুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচির কথা আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল এবং ই-মেলও করা হয়েছিল। তবু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ছিল না।সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছনোর পথে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভের মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে।সাদা জামায় ডিমের দাগ নিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক। তিনি বলেন, ওরা আমাকে প্রাণে মারতে চায়। মেরে দিক। আমার মৃতদেহ উদ্ধার হোক এখান থেকে। আমি সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে যাব না, যতক্ষণ না বাহিনী এসে আমাকে উদ্ধার করছে।তিনি আরও বলেন, আমি চাইলে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি। কিন্তু আমি চলে গেলে সঞ্জুর বাবা-মায়ের উপর অত্যাচার হতে পারে। তাই বাহিনী না আসা পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব।ঘটনার জন্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে সব জানানো সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।সোনারপুরের এই ঘটনা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান অভিষেক। তিনি বলেন, এই ঘটনার দিকে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু উচ্চ আদালত নয়, প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ আদালতেও যাব। দরকার হলে নিজেই আবেদনকারী হিসেবে মামলা করব। সংবিধান আমাকে সেই অধিকার দিয়েছে।ঘটনাস্থলে অভিষেকের সঙ্গে মাত্র দুজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁদের দাবি, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কোনও রকমে তাঁকে নিরাপদে সঞ্জুর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিতেই স্থানীয় থানার আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর আবেদন করা হয়।পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মে ৩০, ২০২৬
কলকাতা

কার সই কে করল? তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে সন্দেহ, তদন্তে নেমেছে সিআইডি

তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা, উপনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া সমর্থনপত্রে সই নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কার সই কে করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরেও বাড়ছে অস্বস্তি।বিধানসভার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তদন্তের গতি বাড়ে। বৃহস্পতিবার রাতেই একাধিক বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের স্বাক্ষর যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।তদন্তের অংশ হিসেবে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে যান তদন্তকারীরা। শুক্রবার সকালে বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও পৌঁছয় সিআইডির একটি দল।বাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা তাঁকে ৬ মে তিনি কোথায় ছিলেন তা জানতে চান। তিনি জানান, সেদিন তিনি নিজের এলাকায় ছিলেন এবং কোনও বৈঠকে যোগ দেননি। তাঁকে একটি নথিতে থাকা সই দেখানো হলে তিনি দাবি করেন, সেটি তাঁর স্বাক্ষর নয়। এই বক্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, কোনও বেআইনি কাজকে সমর্থন করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, বাহারুল ইসলাম যে স্বাক্ষরটি দেখেছেন, সেটিকে তিনি নিজের সই বলে স্বীকার করেননি।অন্যদিকে তাপস মাইতি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট নথিতে থাকা স্বাক্ষরটি তাঁরই। ফলে একই ঘটনায় দুই ধরনের বক্তব্য সামনে আসায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এদিকে বোলপুরে গিয়ে বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার স্বাক্ষরের নমুনাও সংগ্রহ করেছে সিআইডি। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ছোট এবং বড় হরফে তাঁর একাধিক নমুনা সই নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, শপথ গ্রহণের সময় চন্দ্রনাথ সিনহা বাংলায় স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সমর্থনপত্রে তাঁর নামে অন্য ভাষায় স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সব মিলিয়ে সই বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষেরও। সিআইডির তদন্তে আগামী দিনে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মে ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal